পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোলা চিঠি
মাননীয়াসু,
প্রথমেই নমস্কার নেবেন।
আজ একান্ত বাধ্য হয়ে আপনার সমীপে এই খোলা চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলাম। আমি জানি আপনি খুব ব্যস্ত থাকেন সবসময় এবং যদিও এই পত্রের বিষয়বস্তু পশ্চিমবঙ্গের সংষ্কৃতি মন্ত্রকের এক্তিয়ারে তবুও একান্ত অনুরোধ করবো , যদি আপনার মূল্যবান সময়ের মধ্যে থেকে একটু সময় বেরকরে আপনি দয়া করে পচিমবঙ্গের বেসরকারি বাংলা টিভি চেনেলগুলির প্রচারিত সান্ধ্য ( বোধহয় সোপ অপেরা যাকে বলে ইংরেজিতে ) ধারাবাহিক গুলোর সম্বন্ধে একটু খোঁজ খবর নেন তবে ভালো হয়। এই চেনেলগুলো কিছু সামাজিক ধারাবাহিক প্রচার করছে যাতে সামাজিকভাবে আপত্তিকর বিষয়ের নিয়ত প্রচার চালাচ্ছে। এই ধারাবাহিক গুলোর পর্বে পর্বে এক পুরুষের দুই স্ত্রী ,এবং একজন কে আরেকজনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া এমনকি বিগত বছরে প্রচার শেষ হয়ে যাওয়া " রাশি " নামের এক ধারাবাহিকে নাবালক নাবালিকার বিবাহ ও দেখানো হয়েছে সব ধরণের আইন এবং নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে। এই ধারাবাহিকগুলোর প্রযোজক সাধারণত অবাঙালি এবং ওনারা সর্বতোভাবে নিজের আর্থিক লাভের বাইরে কিছু চিন্তা করেন না। এই ধারাবাহিক গুলোর পরিচালকগণ কোনো প্রতিবাদ না করে দর্শকদের রুচির তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন ওই ধারাবাহিকগুলো সম্প্রচার করে যাচ্ছেন।
আপনি যদিও অবগত আছেন যে পচিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল মহাশয় ও এইসব অরুচিকর ধারাবাহিকগুলোর সম্প্রচারের বিরুদ্ধে অতি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন।
সাধারণ মানুষদের এইসব আপত্তিকর ধারাবাহিকগুলোর বিরুদ্ধে মতামত থাকলেও ওদের মতামতের মূল্য গুরুত্ব পায় না। এই সব ধারবাহিক প্রস্তুতকারকদের এতো সাহস যে ওরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের " চোখের বালি" নামের সর্বত্র পঠিত উপন্যাসের ধারবাহিক নির্মাণ এবং প্রচারে যে সাহস এবং নিজস্ব কল্পনা থেকে আহুত চরিত্র সৃষ্টি অম্লানবদনে করে গেছেন, আমার মনে হয় স্বয়ং সত্যজিৎ রায় ও সেই সাহস দেখাতেন না। কে ওদেরকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে খেলা করার অধিকার দিলো ?
আমার মনে আছে এবং আপনিও জানেন যে ১৯৮৬ সনে একবার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী টেলিভিশনের আপত্তিকর বাণিজ্যিক প্রচারের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলেন এবং তার ফলে ঐগুলির প্রচার তখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও তখন দূরদর্শনের যুগ ছিল এবং সরকারি কর্তৃত্ব অনেক বেশি ছিল, কিন্তু আমি আন্তরিকভাবে মনে করি, যে আপনি যদি একবার খোঁজ নেন এবং মনে করেন যে ওই ধারাবাহিকগুলোর প্রচার সামাজিকভাবে ক্ষতিকারক তবে আমার বিনীত অনুরোধ যে আপনি ওই ধারাবাহিকগুলোর প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দিন। কারণ মাননীয় রাজ্যপালের মন্তব্যের থেকে আপনার মন্তব্যের গুরুত্ব পশ্চিমবঙ্গে অনেক বেশি। অপেক্ষায় রইলাম।
ইতি আপনার একান্ত শুভানুধ্যায়ী
দিবাকর পুরকায়স্থ , বেঙ্গালুরু (ভারত)
মাননীয়াসু,
প্রথমেই নমস্কার নেবেন।
আজ একান্ত বাধ্য হয়ে আপনার সমীপে এই খোলা চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলাম। আমি জানি আপনি খুব ব্যস্ত থাকেন সবসময় এবং যদিও এই পত্রের বিষয়বস্তু পশ্চিমবঙ্গের সংষ্কৃতি মন্ত্রকের এক্তিয়ারে তবুও একান্ত অনুরোধ করবো , যদি আপনার মূল্যবান সময়ের মধ্যে থেকে একটু সময় বেরকরে আপনি দয়া করে পচিমবঙ্গের বেসরকারি বাংলা টিভি চেনেলগুলির প্রচারিত সান্ধ্য ( বোধহয় সোপ অপেরা যাকে বলে ইংরেজিতে ) ধারাবাহিক গুলোর সম্বন্ধে একটু খোঁজ খবর নেন তবে ভালো হয়। এই চেনেলগুলো কিছু সামাজিক ধারাবাহিক প্রচার করছে যাতে সামাজিকভাবে আপত্তিকর বিষয়ের নিয়ত প্রচার চালাচ্ছে। এই ধারাবাহিক গুলোর পর্বে পর্বে এক পুরুষের দুই স্ত্রী ,এবং একজন কে আরেকজনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া এমনকি বিগত বছরে প্রচার শেষ হয়ে যাওয়া " রাশি " নামের এক ধারাবাহিকে নাবালক নাবালিকার বিবাহ ও দেখানো হয়েছে সব ধরণের আইন এবং নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে। এই ধারাবাহিকগুলোর প্রযোজক সাধারণত অবাঙালি এবং ওনারা সর্বতোভাবে নিজের আর্থিক লাভের বাইরে কিছু চিন্তা করেন না। এই ধারাবাহিক গুলোর পরিচালকগণ কোনো প্রতিবাদ না করে দর্শকদের রুচির তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন ওই ধারাবাহিকগুলো সম্প্রচার করে যাচ্ছেন।
আপনি যদিও অবগত আছেন যে পচিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল মহাশয় ও এইসব অরুচিকর ধারাবাহিকগুলোর সম্প্রচারের বিরুদ্ধে অতি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন।
সাধারণ মানুষদের এইসব আপত্তিকর ধারাবাহিকগুলোর বিরুদ্ধে মতামত থাকলেও ওদের মতামতের মূল্য গুরুত্ব পায় না। এই সব ধারবাহিক প্রস্তুতকারকদের এতো সাহস যে ওরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের " চোখের বালি" নামের সর্বত্র পঠিত উপন্যাসের ধারবাহিক নির্মাণ এবং প্রচারে যে সাহস এবং নিজস্ব কল্পনা থেকে আহুত চরিত্র সৃষ্টি অম্লানবদনে করে গেছেন, আমার মনে হয় স্বয়ং সত্যজিৎ রায় ও সেই সাহস দেখাতেন না। কে ওদেরকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে খেলা করার অধিকার দিলো ?
আমার মনে আছে এবং আপনিও জানেন যে ১৯৮৬ সনে একবার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী টেলিভিশনের আপত্তিকর বাণিজ্যিক প্রচারের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলেন এবং তার ফলে ঐগুলির প্রচার তখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও তখন দূরদর্শনের যুগ ছিল এবং সরকারি কর্তৃত্ব অনেক বেশি ছিল, কিন্তু আমি আন্তরিকভাবে মনে করি, যে আপনি যদি একবার খোঁজ নেন এবং মনে করেন যে ওই ধারাবাহিকগুলোর প্রচার সামাজিকভাবে ক্ষতিকারক তবে আমার বিনীত অনুরোধ যে আপনি ওই ধারাবাহিকগুলোর প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দিন। কারণ মাননীয় রাজ্যপালের মন্তব্যের থেকে আপনার মন্তব্যের গুরুত্ব পশ্চিমবঙ্গে অনেক বেশি। অপেক্ষায় রইলাম।
ইতি আপনার একান্ত শুভানুধ্যায়ী
দিবাকর পুরকায়স্থ , বেঙ্গালুরু (ভারত)